ডেস্ক রিপোর্ট : সুইডেনের প্রত্নতত্ত্ববিদরা সম্প্রতি এক প্রাচীন স্থানে খননকাজ চালানোর সময় কিছু নিদর্শনের সন্ধান পেয়েছেন। আর এই নিদর্শনগুলো থেকে ৫ম শতাব্দীতে ঘটে যাওয়া এক রহস্যময় হত্যাকাণ্ডের দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশা করছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। আর এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল একটি দ্বীপের এক দুর্গে, যাকে তুলনা করা হয় ইতালির পম্পেই নগরীর ধ্বংসাবশেষের সাথে।সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক হেলেন উইলহেলমসন বলেন, “সাধারণত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোতে আমাদের চোখে ইতিহাসের যে দৃশ্যকল্প ভেসে উঠে, এখানে তা যেন স্থির হয়ে আছে।” তার মতে, এখানেও ইতালির পম্পেই নগরীর মত কিছু একটা ঘটেছিল। ভয়াবহ কিছু, যা হঠাৎ করেই একটি প্রাণবন্ত নগরীর সবকিছুকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। তিনি সুইডেনের সেই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে প্রাপ্ত কিছু দেহাবশেষের হাড় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিলেন।
সুইডেনের সমুদ্র উপকূলের কাছেই ওলান্ড দ্বীপের এক প্রাচীন দুর্গ থেকে ইতোমধ্যেই ৫ টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া দুর্গের অন্যান্য জায়গা থেকেও মানুষের কঙ্কাল বা হাড় পাওয়া যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, পুরো দুর্গ থেকে ১০০টির চেয়েও বেশি মৃতদেহের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। হেলেনের মতে, এখানে অনেক বেশি দেহাবশেষ পাওয়া যেতে পারে এবং মনে হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হেলেন ও তার সহকর্মীরা বলেন, “এই দেহাবশেষগুলো আমাদেরকে সেই সময়ে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, যখন বিভিন্ন নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মানুষ স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো ও ইয়রোপের উত্তরাঞ্চলের এলাকাগুলো থেকে দলে দলে পতনের মুখে থাকা রোমান সাম্রাজ্যে আসতে থাকে। ”
সেই সময় স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা মৃতদেহকে সমাধিস্থ না করে আগুনে দাহ করতো। এছাড়া এর আগে এযুগের যেসব মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল, তাদের সবগুলোই ছিল চিতার আগুনে পোড়ানো দেহাবশেষ। কিন্তু একই যুগের একই জাতির মানুষ হওয়ার পরও ওল্যান্ড দ্বীপে প্রাপ্ত দেহগুলোকে কেন পোড়ানো হয় নি? দ্বীপে কি এমন হয়েছিল যে এই মৃতদেহগুলোকে পোড়ানোর জন্য একজন ব্যক্তিও ছিল না! আরেকটা অমীমাংসিত রহস্য হচ্ছে, এই দেহাবশেষগুলোর সাথে পোশাকে ব্যবহৃত সোনায় মোড়ানো পিন পাওয়া গিয়েছে, যেগুলো কেউ লুঠ করে নিয়ে যায় নি। গত ১৫০০ বছর ধরে এগুলো এই একই জায়গায় পড়ে আছে।
হেলেনের মতে, কোন এক নিষেধাজ্ঞার কারণে কেউ এই দুর্গের কাছে আসতে দীর্ঘদিন ধরে সাহস পায় নি। লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক প্রত্নতত্ত্ববিদ Nicolo Dell’Unto কম্পিউটার ব্যবহার করে এই ধ্বংসপ্রাপ্ত দুর্গের একটি পরিপূর্ণ ত্রিমাত্রিক গঠনের নকশা দাঁড় করান, যাতে দুর্গে আসলে কি ঘটেছিল সেটা বোঝা যায়। তার মতে, তিনি হয়তো এই গণহত্যার রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হবেন। ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুর্গ ও এর ভেতরের দেহাবশেষগুলোর ভাগ্যে কি ঘটেছিল সেটা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানা যাবে।
১৫০০ বছর পুরনো রহস্যময় গণহত্যা!
Sunday, October 6, 2013
Labels:
# ডেইলি সিলেট
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment