নির্বাচনের উপকরণ সরবরাহ শুরু

Monday, October 7, 2013

adside178 ডেইলি সিলেট ডেস্ক

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচনী উপকরণ সরবরাহ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি). নির্বাচনী উপকরণের প্রথম কিস্তির মালামাল নির্বাচন কমিশনে আসবে বলে নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা ইউএনডিপি সরবরাহকৃত স্বচ্ছ ব্যালট বক্স ও ব্যালট বক্সের লক বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। সোমবার এই মালামাল কমলাপুর থেকে বুঝে নেওয়ার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়।


তবে ইসির এক কর্মকর্তা জানান, এ সপ্তাহে নতুন স্বচ্ছ ব্যালট বক্স ও লক কমলাপুর আইসিডি থেকে সরাসরি আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সারাদেশে পাঠানো হবে। বাকি মালামাল ধাপে ধাপে সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছে ইসি।


চলতি মাসেই মালামাল সরবরাহের কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার দেড় মাস আগে এসব উপকরণ সরবরাহ করা হবে।


ইসি কর্মকর্তারা জানান, আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় গণনা শুরু হবে। সংবিধানের ১২৩ এর (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করবে ইসি। এ লক্ষ্যে নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসেবে অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচনী মালামাল সরবরাহ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


ইসি সূত্র জানায়, নির্বাচনী মালামাল নিরাপদে মজুদ করতে সারাদেশের নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসেবে নির্বাচনী মালামালের প্রথম চালান সোমবার কমিশনে পৌঁছবে।


এসব মালামালের মধ্যে রয়েছে, ২ লাখ ৩১ হাজার মার্কিং সিল (ভোট দেওয়ার সিল), ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০০ অফিসিয়াল সিল (ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য), ১৮ হাজার ব্রাস সিল, ১ লাখ ২৯ হাজার ছয়টি স্ট্যাম্প প্যাড ও ১৭ হাজার ৩০০ প্যাকেট লাল গালা।


পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসব মাল নির্বাচন কমিশনকে সরবরাহ করছে। দশম জাতীয় সংসদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য ৬ লাখ ৪৮ হাজার স্ট্যাম্প প্যাড, ৯০ হাজার ব্রাশ সিল, ৬ লাখ ৪৮ হাজার অফিসিয়াল সিল, ১১ লাখ ২৩ হাজার মার্কিং সিল ও ১৭ হাজার ৩০০ কেজি সিলগালা (লাল রংয়ের) প্রয়োজন হবে।


এসব মাল সরবরাহের জন্য টেন্ডারের মাধ্যমে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয় কমিশন। ওই মালের প্রথম চালান সোমবার কমিশনে পৌঁছবে।


জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় বাকি মালামালা আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে সরবরাহ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মালামাল আগামী ডিসেম্বর মাসে কমিশনে পৌঁছবে বলে জানা গেছে।


নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৫ হাজার ২১৭টি ভোট কেন্দ্র ও এক লাখ ৭৭ হাজার ১০৭টি ভোটকক্ষ ছিল। আগামী সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র ও কক্ষ সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে নবম সংসদের সঙ্গে অতিরিক্ত ২৫ ভাগ বাড়তি ধরে দশম সংসদের নির্বাচনী মালামাল সংগ্রহ করছে কমিশন। এতে ভোট কেন্দ্র ধরা হয়েছে ৪৪ হাজার ২১টি ও ভোটকক্ষ ২ লাখ ২১ হাজার ৩৮৪টি।


সূত্র আরো জানায়, দশম জাতীয় সংসদ ও চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের স্বচ্ছ ব্যালট বক্স, অমোচনীয় কালি ও ব্যালট বক্স লক সরবরাহ করছে ইউএনডিপি। নির্বাচন কমিশন থেকে সংসদ ও উপজেলা এই দুই নির্বাচনের জন্য ৪০ হাজার স্বচ্ছ ব্যালট বক্স, ৬ লাখ ৪৮ হাজার অমোচনীয় কালি (কলম আকারে) ও ২৪ লাখ ব্যালট বক্সের লক সরবরাহের জন্য চাহিদাপত্র দেয় নির্বাচন কমিশন।


এসব সরঞ্জামের মধ্যে ৪০ হাজার নতুন স্বচ্ছ ব্যালট বক্স ও ২৪ লাখ ব্যালট বক্সের লক বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ট্রেনযোগে এসব মাল কমলাপুর আইসিডিতে আনা হচ্ছে। এ সপ্তাহে (সম্ভাব্য ৮ বা ৯ অক্টেবর) এসব সরঞ্জাম কমিশনের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এরপরই কমলাপুর আইসিডি থেকে নির্বাচন কমিশনের ১০ জন আঞ্চলিক কর্মকর্তার মাধ্যমে সারাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।


প্রথম পর্যায়ে রংপুর অঞ্চলে ৩ হাজার ৫০০, রাজশাহী অঞ্চলে ৪ হাজার, খুলনা অঞ্চলে ৩ হাজার, বরিশাল অঞ্চলে ২ হাজার, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ৪ হাজার ৫০০, ঢাকা অঞ্চলে ১৪ হাজার ৬৬০, ফরিদপুর অঞ্চলে ২ হাজার, সিলেট অঞ্চলে ২ হাজার, কুমিল্লা অঞ্চলে ১ হাজার ৮৪০ ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে ২ হাজার ৫০০টি স্বচ্ছ ব্যালট বক্স পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে ইসি।


ফরম ও প্যাকেট মুদ্রণ :

ইসি সূত্র জানায়, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাজে ব্যবহারের জন্য ১৮ ধরনের কয়েক লাখ প্যাকেট ও ২৬ ধরনের কয়েক লাখ ফরম মুদ্রণের প্রয়োজন হবে। নির্বাচনী প্যাকেটে ভোট গণনার হিসাব রাখা, ব্যালট পেপার রাখাসহ বিভিন্ন কাগজপত্র রাখার কাজে ব্যবহত হয়।


ফরমগুলোর মধ্যে রয়েছে মনোনয়নপত্র, বৈধ মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা, পোস্টাল ব্যালট, জামানত বই, রসিদ বই, ভোট গণনার বিবরণী কাজে ব্যবহত হয়।


ইতোমধ্যে বেশিরভাগ প্যাকেট মুদ্রণের কাজ করছে গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং (বিজি) প্রেস। ফরম মুদ্রণের জন্য ওয়ার্ক ওয়ার্ডার দেওয়া হয়েছে। রোববার ফরমের নমুনা ও প্রুফ দেখা শেষে অনুমোদন করেছে কমিশন। এখন শুরু হবে ছাপার কাজ। তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর ব্যালট পেপার ছাপার কাজ শুরু করবে কমিশন।





Share on :

No comments:

Post a Comment

 
Copyright © 2015. Sylhet News.
Design by Herdiansyah Hamzah. Published by Themes Paper. Distributed By Kaizen Template Powered by Blogger.
Creative Commons License