বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষের পরদিন গতকাল বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ অনেকটা শিক্ষার্থী শূন্য ছিল। কলেজের পাঠদান যথারীতি চললেও উপসি’তি ছিল কম।
কলেজের প্রধান ফটক বন্ধ রেখে অধ্যক্ষ দ্বারকেশ চন্দ্র নাথের নেতৃত্বে শিক্ষকরা পরিচয়পত্র দেখে ছাত্রছাত্রীদের মিনি দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করিয়েছেন।
এদিকে বিবদমান দু’গ্রুপ নিজ নিজ অবস্থানে থাকলেও কোন গ্রুপকে শহরে মিছিল মিটিং করতে দেখা যায়নি। তবে পথচারি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক অজানা আতংক বিরাজ করছিল। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। উদ্ভূত পরিসি’তিতে আজ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে।
এদিকে, গত সোমবার দুপুরে সংঘর্ষের সময় বন্দুকের গুলিতে আহত ঢাকায় চিকিৎসাধীন রিভারবেল্ট গ্রুপের কর্মী আল আমিনের ডান চোখে আজ অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে। একইভাবে আহত ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ উদ্দিনের অবস্থা এখনো শঙ্কামুক্ত নয়।
এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি আব্দুল হাছিব মনিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান খান গতকাল দুপুরে সিলেটে চিকিৎসাধীন ছাত্রলীগের রিভারবেল্ট গ্রুপের জাহিদসহ অন্য নেতাদের ও সন্ধ্যায় মূলধারা গ্রুপের রুবেলকে দেখতে তার গ্রামের বাড়িতে যান। এ সময় আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল এ দু’নেতা সংঘর্ষের পুরো চিত্র আহতদের কাছ থেকে অবহিত হন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ বুধবার সকাল ১১ টায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে উপজেলা আ’লীগের কার্যকরি কমিটির এক জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় আলোচনার ভিত্তিতে বিবদমান দু’গ্রুপকে আপোষ মীমাংসার আহ্বান জানানো হতে পারে। গতকাল রাতে আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম ফজলুল হক শিবলী বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। শহরের পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত। তিনি বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় কোন মামলা হয়নি।
এদিকে উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন তারেক স্বাক্ষরিক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সোমবার ছাত্রলীগের (রিভারবেল্ট গ্রুপ) শানি-পূর্ণ অবস্থানের উপর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মো. আমান উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও ইকবাল হোসেন তারেকের পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল আলম অপু, জাকির আহমদ, শাহাব উদ্দিন, মামদুদ হোসেন, জামিল আহমদ, তাজুল আহমদ, কলেজ ছাত্রলীগ নেতা সাইদুল ইসলাম, বাবর হোসেন, ফুয়াদ আহমদ প্রমুখ।
বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি আপাতত শান্ত
Wednesday, October 23, 2013
Labels:
# আমাদের সিলেট
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment