আব্দুল হাকিম রাজ, মৌলভীবাজারঃ মৌলভীবাজারে যৌতুকের জন্য পিটিয়ে মুমুর্ষ গৃহবধূকে রাস্থায় ফেলে চলে গেল পাষন্ড স্বামী ও তার দুই ভাই। শুধু তাই নয়, দুগ্ধপোষ্য ১৫ মাস বয়সী শিশুপুত্রকেও মুমুর্ষ গৃহবধুর কোল থেকে কেড়ে নিয়ে যায় পাষন্ড স্বামী ও তার দুই ভাই। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই গৃহবধূ ও তার পরিবার সূত্রে অমানবিক এ ঘটনার বিবরনে জানা যায়- প্রায় ৩ বছর পূর্বে সামাজিক অনুষ্টানের মাধ্যমে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আনিকেলীবড় গ্রামের মোঃ সমুজ মিয়ার কন্যা শিরিন আক্তার (২১)’র বিয়ে হয়েছিল একই উপজেলার বিরাইমাবাদ (বুরিকোণা) গ্রামের ইলিয়াছ মিয়ার পুত্র মসুদ মিয়া (৩৫)’র সাথে। বিয়ের বছর না ঘুরতেই মসুদ মিয়া নানা ছলছুতায় এটা সেটা যৌতুকের শিরিন আক্তারকে চাপ দিতে শুরু করলে, মেয়ের সুখের চিন্ত্রা করে শিরিনের পিতা জামাতা মসুদকে ২ লাখ টাকা দেন। এরপর কিছুদিন ভাল চললেও, পরবর্তীতে আবার শুরু হয় সেই পুরোনো উপসর্গ। মসুদ এবার বিদেশ যাবার জন্য পিত্রালয় থেকে টাকা এনে দিতে চাপ সৃষ্টি করে স্ত্রী শিরিনের উপর। এতে অপারগতা জানালে শিরিনের উপর শুরু হয় যেকোন অজুহাতে নির্মম প্রহার। পর্যায়ক্রমে মসুদের আপন দুই ভাই মছনু মিয়া এবং মজনু মিয়াও শুরু করে যেকোন অজুহাতে নির্মম প্রহার। সর্বশেষ- গত ১১ অক্টোবর মসুদ এবং দুই ভাই মছনু মিয়া ও মজনু মিয়া শিরিনকে বেধড়ক পিটিয়ে দুগ্ধপোষ্য ১৫ মাস বয়সী শিশুপুত্র মোঃ মুসাম মিয়াকে কোল থেকে কেড়ে নিয়ে মুমুর্ষ অবস্থায় একটি গাড়ীযোগে শিরিনকে তার পিত্রালয়ের বাড়ীর নিকটস্থ রাস্থার পাশে ফেলে রেখে যায়। জনৈক সিএনজি অটোরিক্সা চালক বদরুল রাস্থার পাশে পড়ে থাকা শিরিনকে দেখে হাল্লা চিৎকার শুরু করলে তার সহযোগী ফয়সল ও ডিলার আইযুব ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং শিরিনকে চিনতে পেরে ফযসল তার পিতা সমুজ মিয়া ও ভাই মোঃ নাজুম মিয়াকে খবর দিলে তারা এসে শিরিনকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে (ভর্তির নং- ৪৫৭৯৯, তারিখ- ১১/১০/২০১৩ইং) ভর্তি করেন। যৌতুকের জন্য নির্মম নির্যাতিত গৃহবধূ শিরিনের পিতা মোঃ সমুজ মিয়া এ প্রতিবেদককে জানান- বিয়ের বছর না ঘুরতেই যৌতুকের জন্য স্বামী ও তার দুই ভাই আমার মেয়েকে নির্যাতন করে আসছিল। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে তার যৌতুকলোভী স্বামী ও পরিবারকে আমার সাধ্যানুযায়ী যৌতুক দিয়ে আসছিলাম। তা সত্তেও তারা অমানুষিক পিটিয়ে ১৫ মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য একমাত্র নাতিকে কোল থেকে কেড়ে নিয়ে আমার মেয়েকে আমার বাড়ীর সামনের রাস্থার পাশে ফেলে রেখে গেছে। কোন সভ্য সমাজে এ রকম অমানবিক ঘটনা কোথাও ঘটে কি-না তা আমার জানা নেই। আমি এসব পাষন্ডদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এ ব্যাপারে একাটুনা ইউপির সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল্লাহ জানান- আমি বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করলেও, মসুদ, মছনু ও মজনু তা অমান্য করেছে। তাই, মেয়ে পক্ষকে আইন-আদালতের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি। মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি আজিজুর রহমান জানান- হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই গৃহবধূকে দেখেছি এবং এস আই জামালুদ্দিনকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মুমুর্ষ শিরিন আক্তার মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গৃহবধূকে রাস্থায় ফেলে চলে গেল পাষন্ড স্বামী ও তার দুই ভাই
Sunday, October 13, 2013
Labels:
# সুরমা টাইমস
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment