আমাদের সিলেট ডটকম:
বিয়ানীবাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে কলেজ রোড রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। দু’পক্ষে গোলাগুলি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ এসে ২ রাউন্ড শটগানের গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষে ২ পুলিশসহ উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ছাত্রলীগের রিভারবেল্ট গ্রুপের ৮ জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও একজনকে আশংকাজনক অবস্থায় রাতে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
ফের সংঘর্ষের আশংকায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্তি দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ছাত্রলীগের বিবদমান দু’গ্রুপের কোন পক্ষই থানায় মামলা করেনি। তবে পুলিশ বাদি হয়ে রাতে পুলিশ এসল্ট মামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা যায়, সোমবার দুপুরে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের রিভারবেল্ট গ্রুপ ও মূলধারা গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে রিভারবেল্ট গ্রুপের কর্মীদের হাতে কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র মূলধারা গ্রুপের রুবেল আহমদ রক্তাক্ত জখমপ্রাপ্ত হন। পরে সতীর্থরা রুবেলকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার মাথায় ৪টি সেলাই দেওয়া হয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম রয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেলা আড়াইটায় মূলধারা গ্রুপ পৌরশহরে মিছিল বের করে। মিছিলটি রিভারবেল্ট গ্রুপের অবস্থান অতিক্রমের সময় আবারও বিবদমান দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ দেখা দেয়। এ সময় দু’পক্ষে ঘন্টাব্যাপী গোলাগুলি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় পুলিশের এসআই অরূপ কুমার চক্রবর্তী ও কন্সটেবল রাজুসহ দু’পক্ষের ১৫ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২ রাউন্ড শটগানের গুলি ছুঁড়ে। এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে রিভারবেল্ট গ্রুপের ছাত্রনেতা আমান উদ্দিন জানান, মূলধারা গ্র“পের বন্দুকের গুলিতে জাহিদ, ওয়াহিদ, রুমেল, রাজু, আলম, আল আমিন, ফজলু ও কামরুল গুরুতর আহত হন। তাদেরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আল আমিনের চোখে গুলি লাগায় রাতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে মূলধারা গ্র“পের ছাত্রনেতা হোসেন আহমদ জানান, সংঘর্ষে তাদের গ্র“পের কেউ গুলিবিদ্ধ হননি। তবে কলেজ ক্যাম্পাসে আহত রুবেলের অবস্থা গুরুতর।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম ফজলুল হক শিবলী বলেন, ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তিনি বলেন, এ নিয়ে কেউ থানায় মামলা করেনি। তবে চিহ্নিত বন্দুকধারীদের বিরুদ্ধে রাতে পুলিশ এসল্ট মামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শহর রণক্ষেত্র,পুলিশসহ আহত ১৫, একজনকে ঢাকায় প্রেরণ,ফের সংঘর্ষের আশংকা
Monday, October 21, 2013
Labels:
# আমাদের সিলেট
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment