সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জের একাংশ) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, সাবেক ছাত্রনেতা, আওয়ামী লীগ এবং বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা মুহাম্মদ মনির হোসাইন।
তিনি সোমবার নগরীর একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার বর্ণাঢ্য অতীতজীবনে রাজনীতির সঙ্গে সমপৃক্ততা ও কর্মকান্ডের ফিরিসি- তুলে ধরে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মনির হোসাইন বলেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমি দেশ ও বিদেশে মানবকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় আমার এ দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় উন্নয়নে পূর্ণাঙ্গভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নিজেকে নিবেদিত করতে চাই। এই লক্ষ্য আপনাদের মাধ্যমে সর্বসাধারণের কাছে তুলে ধরতেই আজকের এই সংবাদ সম্মেলন। তিনি বলেন, বিলেতের মতো উন্নত দেশে বসবাস করলেও দেশের মানুষের ব্যাথায় ব্যাথিত হই এবং হাসি-আনন্দে আপ্লুতও হই। দেশের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখি একটি সুস’, সুন্দর ও পরমতসহিষ্ণু রাজনীতির। আমি স্বপ্ন দেখি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার-যেখানে থাকবে না ক্ষুধা, দারিদ্র, অন্যায়, অবিচার, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, আধিপত্যবাদ, অর্থ ও অস্ত্রের অপব্যবহার। আমি স্বপ্ন দেখি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই দেশকে, বদলে দিতে চাই এ ঘুণেধরা সমাজব্যবস’াকে। আর সেই স্বপ্ন নিয়ে আমি ফিরে এসেছি আমার জন্মমাটির মানুষের জন্য কাজ করতে।
তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ভিশন ২০২১ ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস-বায়নের স্বপ্ন নিয়ে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে একটি আত্মনিভর্রশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছে। অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে চলেছে শিক্ষা, স্বাস’্য, কৃষি, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস’া, দারিদ্র্য বিমোচনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে। বিশেষ করে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ ও চাঁদাবাজিসহ বিএনপি আমলের বিভিন্ন অপকর্ম দূরীকরণে সরকারের সাফল্য সুশাসনের মাইলফলক হয়ে থাকবে। আমিও এ সবের অংশীদার হতে চাই। মুহাম্মদ মনির হোসাইন বলেন, এমন প্রেক্ষাপটে আমিও আমার ছাত্র রাজনীতি এবং প্রবাস জীবনের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা উজাড় করে দিতে চাই। প্রস-ুতি নিয়েছি আমার প্রিয় জন্মমাটি, রত্নগর্ভা দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ এলাকার সন-ান হিসেবে শুধু নিজ এলাকাই নয় জাতীয় উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে। আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আমার প্রাণপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাছে সহযোগিতা চাই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্িবতা করতে চাই সিলেট-৩ আসনে। আমি অবহেলিত এলাকার মানুষের শিক্ষা, স্বাস’্য, কর্মসংস’ান, যোগাযোগ অবকাঠামো, তথ্য-প্রযুক্তি, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানীয় জলের ব্যবস’াসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয়তা মেটাতে কাজ করতে চাই। তাছাড়াও, ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠাসহ এলাকার নানাবিধ শিল্পসম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে শিল্পোন্নত এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে স’ানীয়দের কর্মস’ানের মাধ্যমে আর্থিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে চাই। আমার এই স্বপ্ন পূরণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন প্রার্থী হিসেবে আমি জননেত্রী শেখ হাসিনা, আমার প্রাণপ্রিয় সংগঠন আওয়ামী লীগের সমর্থন প্রত্যাশা করছি এবং আপনাদের সহযোগিতার পাশপাশি সিলেট-৩ আসনের সর্বস-রের নাগরিকবৃন্দের দোয়া এবং সযোগিতা কামনা করি।
মুহাম্মদ মনির হোসাইন নিজ পরিচয় তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, আমার জন্ম ১৯৫৬ সালে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালাবাজার ইউনিয়নের নাজিরবাজার এলাকাধীন ঝাজর গ্রামে। গ্রামের সরকারি প্রাইমারী স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে লালাবাজার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই এবং সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি এম.সি কলেজ থেকে আই.কম এবং মদন মোহন কলেজ থেকে বি.কম পাশ করি। এরপর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাউন্টিং-এ মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করে একই সাথে ঢাকা ল’ কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করি।
মনির হোসাইন সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, তৎকালীন সিলেটের ছাত্র রাজনীতির সাথে আমি সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলাম এবং এমসি ইন্টারমিডিয়েট কলেজে অধ্যয়নকালে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কলেজ শাখার সভাপতি এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন মদন মোহন কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। ১৯৭৭ সালে আমি ঐতিহ্যবাহী মদনমোহন কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হই। কলেজে অধ্যয়নরত কয়েক হাজার ছাত্র ও শিক্ষকদের জন্য নামাজের কোনো ব্যবস’া না থাকায় আমার নেতৃত্বে ছাত্র সংসদের উদ্যোগে মসজিদ প্রতিষ্ঠাসহ কলেজের সার্বিক উন্নয়নের সূচনা হয়। এ সময় আমার সঙ্গে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন তৎকালীন ছাত্রনেতা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ, ছাত্রসংসদের তৎকালীন জিএস ও সিলেট পৌরসভার সাবেক কমিশনার মারুফ আহমদ, সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমানে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন সহ অনেকে। ১৯৮১ সালে সিলেট আইন কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে ভিপি নির্বাচিত হই এবং ভিপি থাকাকালীন কলেজের স’ায়ী নিজস্ব ভবন নির্মাণের লিখিত দাবি তৎকালীন রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করি। পরবর্তীতে সেই দাবি বাস-বায়িত হয়। এ সময় আমার সঙ্গে কলেজের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ এবং ছাত্র সংসদের তৎকালীন জিএস ও পরবর্তীতে সিলেট জেলা বারের দুই বারের নির্বাচিত সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীনসহ অন্যরা বিশেষ ভূমিকা রাখেন। আমি ১৯৮৪ সালের শেষ দিকে সিলেট জেলা বারে একজন আইনজীবী হিসেবে যোগদান করি এবং ১৯৮৫ সালে সালে আইন বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে যাত্রা করি। প্রবাস জীবনের কর্মকান্ড তুলে ধরে মুহাম্মদ মনির হোসাইন বলেন, ১৯৮৮ সালে গ্রেটার লন্ডনের বিখ্যাত বারা কাউন্সিল টাওয়ার হ্যামলেটস-এ শিক্ষকতায় যোগদান করি এবং ইউনিভার্সিটি অব গ্রীনিচ থেকে শিক্ষকতার ওপর উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে কোয়ালিফাইড টিচার ও আইটি কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দীর্ঘ প্রায় দু’ দশক মহান পেশা শিক্ষকতায় নিজেকে নিয়োজিত রাখি। শিক্ষকতার পাশাপাশি আমি পুনরায় লন্ডন ইউনিভার্সিটির অধীনে বিখ্যাত বার্কবেক কলেজ থেকে এলএলবি এবং লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি থেকে এলপিসি সমাপ্ত করি। সে সময় শিক্ষকতার পাশাপাশি ২০০৯ সাল থেকে বৃটেনের বিভিন্ন খ্যাতনামা সলিসিটর ফার্মে কাজ করি। বর্তমানে আমি গ্রেটার লন্ডনের ইলফোর্ড-এ অবসি’ত স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান আব্দুল্লা সলিসিটর-এ কমর্রত আছি। ১৯৯৫-৯৬ সালে বিপুল ভোটে বাংলাদেশ টিচার্স এসোসিয়েশন ইন ইউকে’র সভাপতি নির্বাচিত হই এবং ১৯৯৭ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন- ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব টিচার্স (এনইউটি) ইস্ট লন্ডন শাখার ইক্যুয়াল অপরচ্যুনিটি অফিসার এবং পূর্ব লন্ডনের মওলেম স্কুলের এনইউটি’র স্কুল রেপের দায়িত্ব পালন করি। ২০০৪ সালে আমি লন্ডন বারা অব নিউহাম-এর অধীনস’ সারা বনেল সেক্রেটারী স্কুলের পেরেন্টস গভণর্র নির্বাচিত হই এবং ২০০৬ সাল থেকে নিউহাম পেরেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশী ছেলেমেয়েদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে বিশেষভাবে কাজ করে যাচ্ছি এবং বর্ণবৈষম্য দূরীকরণে স’ানীয় ও কেন্দ্রীয়ভাবে সামাজিক সাম্য ও সহনশীলতার নীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছি। আমি ১৯৯৪ সালে বৃটেনে সিলেটী প্রবাসীদের সর্ববৃহৎ সংগঠন ‘গ্রেটার সিলেট কাউন্সিল’-এর কেন্দ্রীয় জেনারেল সেক্রেটারী মনোনিত হই। সে সময় সিলেট বিভাগ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সফল নেতৃত্ব দিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে জনমত প্রতিষ্ঠা করি এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ দাবি উত্থাপন করলেন তা বাস-বায়নের আশ্বাস দেন। পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে সিলেট বিভাগ ঘোষণা করেন। মুহাম্মদ মনির হোসাইন বলেন, আমি আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদশের্র একজন সৈনিক এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের একজন আওয়ামী লীগ কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও কার্যকরী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। ২০০৭ সালের ১৭ জুন আমার ঐকানি-ক উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় সমগ্র বৃটিশ বাংলাদেশীদের জন্য ভয়েস ফর ব্রিটিশ বাংলাদেশীজ খ্যাত একটি জাতীয় ভিত্তিক সংগঠন ডেভেলাপমেন্ট কাউন্সিল ফর বাংলাদেশীজ ইন ইউকে (ডিসিএফবি) প্রতিষ্ঠা করে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। ডিসিএফবি ইতোমধ্যে বৃটেন ও বাংলাদেশ সরকারের পলিসি পর্যায়ে কাজ করার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান- স’াপন করে সর্বমহলের প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হয়েছে। ছাত্র রাজনীতি ও নিজস্ব অন্বেষার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দর্শন ও তাত্ত্বিক রাজনীতির সাথে আমার পরিচয় ঘটে এবং যুক্তরাজ্যে অবস’ানকালে গণতন্ত্র ও সংবিধানের উপর বিশেষ অনুসন্ধানমূলক গবেষণাকার্য আমার রাজনৈতিক জ্ঞানের পরিমন্ডলকে আরো সমৃদ্ধ করে। আমার রচিত ‘সাংবিধানিক চুক্তিসমূহ কি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের গণতান্ত্রিক শূন্যতা পূরণে সমর্থ’ শীর্ষক গবেষণামূলক প্রবন্ধ ও বাংলাদেশের সুশাসন ও আর্থ-সামাজিক এবং রাজনৈতিক উন্নয়নের ব্যাপারে আমার ব্যাপক প্রস-াবনা ও কর্মকান্ড সর্বমহলে প্রশংসিত হয়। তাছাড়াও যুক্তরাজ্যে অবস’ানকালে সেখানকার মেইন স্ট্রিম রাজনীতি লেবার দলের একজন সক্রিয় কর্মী এবং ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব টিচার্স এর ইক্যুয়াল অপুরচুনিটিজ অফিসারের দায়িত্ব পালন করে সে দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র, রাজনীতি, শ্রমিক অধিকার ও পেশাজীবীদের আন্দোলন সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জনের সুযোগ আমার হয়েছে। তাছাড়াও, বিশ্বরাজনীতি, অর্থনীতি, সংসদীয় গণতন্ত্র সম্পর্কে আমি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি সেটা আমার ভবিষ্যৎ জীবন চলার পথে পাথেয় হিসেবে থাকবে বলে আমি মনে করি।
সংবাদ সম্মেলনে দৈনিক সিলেট সংলাপের সম্পাদক মুহাম্মদ ফয়জুর রহমান, সিলেটের ডাকের বার্তা সম্পাদক ও সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সমরেন্দ্র বিশ্বাস, জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সংগ্রাম সিংহ, ইঞ্জিনিয়ার হাসানুর রশিদ সহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপসি’ত ছিলেন।
সিলেট-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান মনির হোসাইন
Monday, October 21, 2013
Labels:
# আমাদের সিলেট
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment