সুরমা টাইমস রিপোর্টঃ নয়া পল্টনের দলীয় কার্যালয় থেকে ফেরার পথে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ীবহর আটকে বিএনপির সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও ছাত্রদল সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ১১টার দিকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সাথে সাক্ষাত শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ির বহর যখন গুলশান কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে তখন ঢাকা মেট্রো চ-৫৩৫৪৩১ নাম্বারের গাড়িটি আটকে দেয় পুলিশ।
মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ উপকমিশনার মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে সাদাপোশাকধারী পুলিশ সদস্যরা কালো রংয়ের ঐ মাইক্রোবাস থেকে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে জোরপূর্বক আটক করে। পুলিশের ধস্তাধস্তিতে এসময় খালেদা জিয়ার প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) আব্দুল মজিদসহ দুজন আহত হন।
উপস্থিত বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, পুলিশ গাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙ্গে টুকুকে আটক করে। এসময় ড্রাইভার নূর হোসেন গাড়ীর গ্লাস খুলতে না চাইলে তাকেসহ আরো ২ জনকে মারধর করে পুলিশ।
বিএনপির সহ দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি বাংলাপ্রেসকে জানান, এ ঘটনার সময় আমরা অসুস্থ রিজভীর ভাইয়ের রুমে ছিলাম। টুকুকে গ্রেফতার করতে পুলিশ আগে থেকেই ওৎপেতে ছিলো। পুলিশের গায়ে গাড়ি তুলে দেয়া অজুহাত ও পুলিশি কৌশল। এ ঘটনায় সরকারের শীর্ষমহলের ইঙ্গিত থাকতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চেয়ারপারসনের গাড়ী বহর চলে যাওয়ার সময় পিছন দিকে থাকা কালো রংয়ের মাইক্রোবাসটি পুলিশ ঘিরে ধরে এবং চাকায় বড় কংক্রিট দিয়ে বাঁধা দেয়। এরপর খালেদা জিয়া নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী (সিএসএফ) মাইক্রোবাসটি নিজেদের বললেও এডিসি মেহেদি তাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এতে বিএনপির দুজন আহত হয়।
পরবর্তীতে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসটির জানালার কাঁচ ভেঙ্গে ড্রাইভারকে মারধর করা হয়। এরপর ভাঙ্গা জানালা দিয়ে পিছনে সিটে বসা টুকুকে টেনে হিঁচড়ে বের করা হয়। টুকুর সঙ্গে মাইক্রোবাসে আরো দুজন থাকলে পুলিশ তাদেরকে আটক করেনি। পুরো ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মী-সিএসএফ ও পুলিশ-গোয়েন্দাদের মধ্যে ব্যাপক বাক বিতন্ডার সৃষ্টি হয়।
এদিকে, এ অভিযোগ অস্বীকার করে এডিসি মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ খালেদা জিয়ার গাড়ির বহর প্রস্তুত করার সময় কালো রংয়ের ঐ গাড়িটি ইচ্ছাকৃতভাবেই আমি এবং আমার দুই সহকর্মীর উপর তুলে দেয়। এসময় আমার হাতের কব্জীতে এবং বাকি দুই সদস্যের কোমরে আঘাত লাগে।
তিনি বলেন, পুলিশের ওপর বিশেষ করে আমার উপর গাড়ি তুলে দিয়ে আহত করার অপরাধেই টুকুকে আটক করা হয়েছে। তাকে মতিঝিল থানায় রাখা হয়েছে। সেখানে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, কি কারণে এ ইচ্ছাকৃত আঘাত। তবে তাকে অন্য কোনো মামলায় গ্রেফতার করা হয়নি বলেও সাংবাদিকদের জানান তিনি।
সিএসএফ কর্মীদের হাতাহাতির বিষয়ে এডিসি মেহেদী বলেন, এ ধরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। গাড়ী দিয়ে পুলিশ সদস্যদের আহত করার জন্যই টুকুকে আটক করা হয়েছে। সেখান থেকে মাইক্রোবাস বা অন্য কাউকে আটক করা হয়নি কেন জানতে তিনি বলেন, ড্রাইভার পলাতক রয়েছে বিধায় তাকে আটক করা হয়।
অপরদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে নয়াপল্টনে বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে নেতা-কর্মীরা। ঘটনার পর নয়াপল্টন কার্যালয় এলাকায় ব্যাপক-পুলিশ র্যাব অবস্থান নিয়েছে। সেখানে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। টুকুকে আটক খবর পেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন নয়া পল্টনের কার্যালয়ের অদূরে গাড়ীর ভিতরে অপেক্ষা করেন। সেখানে গণমাধ্যমকর্মীরা গাড়ীটি ঘিরে রাখলেও তিনি কোনো কথা বলেননি। রাত ১১টা ২৭ মিনিটে গুলশানের উদ্দেশ্য রওনা দেন তিনি। তথ্যসূত্রঃ বাংলাপ্রেস
চেয়ারপারসনের গাড়িবহর থেকে টুকু গ্রেফতার
Monday, October 21, 2013
Labels:
# সুরমা টাইমস
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment